করোনায় সিলেটেও বেড়েছে খুন-খারাবি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ মে ২০২০

দেশ ডেস্ক: করোনায় সিলেটে বেড়েছে খুন-খারাবি। ঘরবন্দি থাকা মানুষের মধ্যে ছড়াচ্ছে হিংসা-বিদ্বেষ। তুচ্ছ ঘটনায় ঘটছে খুনের ঘটনাও। দেখা দিচ্ছে পারিবারিক কলহ। এতে করে কিছুটা অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে সমাজে। এই অবস্থায় সিলেটে স্বল্প পরিসরে চালু হচ্ছে মার্কেট। এতে ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটছে সিলেটে। পুলিশ বলছেÑ করোনাকালে যাতে সিলেটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
গত ১১ই মে গোলাপগঞ্জ উপজেলায় স্বামীর ছুরির আঘাতে খুন হয়েছেন স্ত্রী। গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের মাঝের মহল্লা গ্রামের এনাম উদ্দিন দ্বিতীয় বিয়ে করার অনুমতি দিতে স্ত্রী শিল্পী বেগমকে চাপ প্রয়োগ করছিল। এ বিষয় নিয়ে এনাম তার স্ত্রীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে এনাম তার স্ত্রী শিল্পী বেগমের গলায় ছুরি দিয়ে কোপ দিলে ঘটনাস্থলেই শিল্পী বেগম নিহত হন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গতকাল এলাকায় মানববন্ধন করেছে। ৮ই মে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আপন ভাতিজার হাতে খুন হয়েছেন চাচা। নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুল জব্বার।
তিনি লালাবাজারের ভরাউট গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে আবদুল জব্বার ও তার বড় ভাই আব্দুস সাত্তারের মধ্যে পারিবারিক জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর সূত্র ধরে আব্দুস সাত্তারের পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জব্বারের বসতঘরে ঢুকে পড়ে। এ সময় আব্দুস সাত্তারের ছেলে ফাহিম আহমদের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে চাচা জব্বারকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ নিহতের ভাতিজা ফাহিমকে আটক করেছে। ৬ই মে সিলেটে একদিনে তিনটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। জেলার ওসমানীনগর, বিয়ানীবাজার ও সদর উপজেলায় খুনের ঘটনাগুলো ঘটে।
বুধবার ইফতারের সময় ওসমানীনগর উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের ঈশাগ্রাই গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় ওই গ্রামের শিপন মিয়া নামে এক যুবক খুন হয়। শিপন ওই গ্রামের আশিক আলীর ছেলে। একই দিন বাঁশ কাটা নিয়ে সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের লামারগাঁওয়ে প্রতিবেশী নাজিম উদ্দিনের হামলায় তেরা মিয়া নামে এক বৃদ্ধ নিহত হন। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের নালবহর গ্রামে প্রতিবেশী দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে এক বৃদ্ধ খুন হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১২ জন। নালবহর গ্রামের কয়েছ আহমদের ঘরের চাল থেকে বৃষ্টির পানি প্রতিবেশী আবদুর রউফের উঠোনে পড়া নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে উভয় পরিবারের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়া আবদুর রউফকে ওসমানী হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। দক্ষিণ সুরমায় শাহজালাল ব্রিজের নিচ থেকে ৯ই এপ্রিল এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার লাশ সুরমা নদীর পাড় থেকে উদ্ধার করা হয়। মারা যাওয়া যুবকের নাম সাগর। তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন গ্রামে। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার পুরান সিরাজপুর গ্রামে হাফিজ নুরুল আমিন নামে এক মাদ্রাসাছাত্র খুন হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত আমিন বিশ্বনাথ কামিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী। সিলেট নগরীতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী স্বামীকে ভিডিও কলে রেখে এক নারী আত্মহত্যা করেন। ৫ই এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর জিন্দাবাজারস্থ কাজী ইলিয়াস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, নিহত ওই নারীর নাম লুবনা। তার স্বামী তৌহিদ আহমদ নিপু যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। কোম্পানীগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হাজেরা বিবি নামের এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। ৩০শে এপ্রিল ভোরে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, লকডাউনের মধ্যে যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে সেদিকে পুলিশ লক্ষ্য রাখছে। পারিবারিক বিরোধের মধ্যে কয়েকটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ নজরদারি আরো বাড়াবে বলে জানান তিনি। এদিকে সিলেট নগরীতে দিন দুপুরে ছিনতাই বেড়েছে।
সোমবার দুপুরে নগরীর নয়াসড়কের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইয়ের শিকার মহিলার নাম ফাতেমা আখতার, স্বামী নাসির উদ্দিন। তিনি নগরীর কাজিটুলা ই-৩৭ নম্বর বাসার বাসিন্দা। ফাতেমা মার্কেট থেকে এনে কাপড় বিক্রি করেন। সোমবার তিনি বাসা থেকে নগদ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে কাপড় কেনার উদ্দেশ্যে বের হন। নগরীর নয়াসড়ক এলাকার সামনে যেতেই দুজন মোটরসাইকেল আরোহী তার হাতে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই ব্যাগে নগদ ৩৫ হাজার টাকা ছাড়াও তার ও তার বাবার ভোটার আইডি কার্ড, সোনালী ব্যাংকের চেক বই ও একটি মোবাইল ছিল। বিষয়টি স্বীকার করে কোতোয়ালি থানার ওসি মো. সেলিম মিয়া জানিয়েছেন, ঘটনার খবর শুনেই পুলিশ পাঠিয়েছি।
নগরীর সিসি ক্যামেরাগুলো চেক করা হচ্ছে। ছিনতাইকারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। সিলেট নগরীর উপশহর থেকে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে শাহপরান থানা পুলিশ। নিহত গৃহবধূর নাম চৌধুরী মালিহা নওশিন। তিনি ওই এলাকার আমেরিকা প্রবাসী আদনান চৌধুরীর স্ত্রী। নিহত গৃহবধূ শাহজালাল উপ-শহরের জি ব্লকের ৫ নম্বর রোডের বাসিন্দা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হযরত শাহপরান (রহ.) থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম জানিয়েছেন- পারিবারিক কলহের জেরেই ওই গৃহবধূ ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুছা জানিয়েছেন, সিলেটে যাতে অপরাধ এবং ছিনতাই না বাড়ে সে কারণে দিনে ও রাতে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি করোনাকালীন সময়ের চেকপোস্টগুলোও সজাগ রয়েছে। তারাও নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবেন। -মানবজমিন

