মোমেন গেলেন মাজারে মুক্তাদির কোর্টে
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ নভেম্বর ২০১৮
সিলেট, ২৮ নভেম্বর: প্রায় একই সময়ে সিলেটে এলেন ড. একে আবদুল মোমেন ও খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দৃশ্যপটও ছিল ভিন্ন। ড. মোমেনকে বরণ করে নিতে কয়েকশ’ নেতাকর্মীর ভিড়। গাড়ি শোডাউন দিয়ে তারা বরণ করতে গেছেন প্রার্থীকে। আর খন্দকার আবদুল মুক্তাদির চলে এলেন নীরবে। সোজা চলে গেলেন আদালতে। সেখানে মামলা হাজিরা দিয়ে তিনি বাসায় ফেরেন। আর ড. একে আবদুল মোমেন নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সিলেটের ওলিকুল শিরোমনি হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন।
ড. একে আবদুল মোমেন মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত ও খন্দকার আবদুল মুক্তাদির হচ্ছেন বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এ দুইজনই হয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে মুখোমুখি।
দলীয় মনোনয়ন যুদ্ধে অংশ নিতে গত কয়েক দিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন সব রাজনৈতিক দলের নেতারা। মনোনয়ন কনফার্ম হওয়ার পর সোমবার থেকে তারা সিলেট ফিরতে শুরু করেন। সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছোট ভাই ড. একে আবদুল মোমেন। দলীয় ফোরামে প্রতিযোগিতা করার পর গত রোববার তার টিকিট কনফার্ম হয়। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে সোমবার টুঙ্গি পাড়ায় যান। মঙ্গলবার তিনি নৌকার টিকিট হাতে নিয়ে সিলেটে ফিরেন। তাকে নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস-উৎসাহের কমতি নেই। দুপুর ২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ড. একে আবদুল মোমেন সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেন। তার আগেই বিমানবন্দর এলাকায় নেতাকর্মীদের ভিড় লেগে যায়।
ড. মোমেনকে বরণ করতে বিমানবন্দরে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। ড. মোমেন আসার পর তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করা হয়। এরপর মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে কয়েকশ’ নেতাকর্মী তাকে নিয়ে যান সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহে। সেখানে তিনি কামরান ও আশফাককে সঙ্গে নিয়ে মাজার জিয়ারত করেন। পরে তিনি সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদদের স্মরণ করেন।
এরপর তাকে নিয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা সহকারে দলীয় নেতারা হজরত শাহপরান (রহ.) ও আদি মুসলমান হজরত বুরহান উদ্দিন (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন।
এদিকে- দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় ড. মোমেন প্রধানমন্ত্রীসহ সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন- ‘সিলেট আওয়ামী লীগে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। দলীয় মনোনয়নের জন্য সবাই প্রতিযোগিতা করেছেন। এখন আমি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর সবাই নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।’ তিনি বলেন- ‘সিলেটের ইয়াংরা তাকে বরণ করতে এসেছে। তাদের ভালোবাসা পাচ্ছি। কিন্তু আমি কোনো শোডাউন দিচ্ছি না। মাজার জিয়ারতে আসতে আমি দলীয় কয়েকজন নেতা ছাড়া কাউকে জানায়নি। সুতরাং শোডাউনের প্রশ্ন আসে না।’ তবে- এবার নির্বাচিত হলে যুবকদের জন্য বর্তমান সরকার আগামীর উন্নত বাংলাদেশ উপহার দেবে।
এদিকে- সোমবারই মনোনয়ন নিতে প্রথমে ডাকা হয়েছিল খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে। কিন্তু রাত পর্যন্ত সিলেট বিভাগের প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রদানের পালা না আসায় রাতে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। দুপুরের পর মনোনয়নের জন্য সিলেট বিভাগের নেতাকর্মীদের মনোনয়ন নিয়ে আসার জন্য ডাকা হয়। কিন্তু যেতে পারেননি সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এর কারণ- গতকাল সিলেটের আদালতে তার হাজিরা দেয়ার কথা রয়েছে। যে মামলায় তিনি কারাবরণ করেছেন সেই মামলারই হাজিরা তার। এ কারণে তিনি সকালেই ঢাকার বাসা থেকে চলে আসেন বিমানবন্দরে। সেখান থেকে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে তিনি দুপুরে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় একাই ছিলেন মুক্তাদির। অনেকটা নীরবে তিনি সিলেটে চলে আসলেন। আসার সময় দেখে আসলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও।
এরপর বিমানবন্দর থেকে যান সিলেটের আদালতে। সিলেটের বন্দরবাজারের সবুজ বিপনী মার্কেটের সামনে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে দায়ের করা মামলায় হাজিরা দেন তিনি। আদালত তার জামিন বহাল রাখেন। এ সময় আদালতে তার সঙ্গে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক ছাড়াও সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। খন্দকার আবদুল মুক্তাদির মামলায় হাজিরা দিতে সিলেটে চলে আসায় তার পক্ষে ঢাকার দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। পরে এই মনোনয়নপত্র সিলেটে পাঠানো হয়।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন- ‘আমরা তো মামলায় আক্রান্ত। কারাগার ও আদালতে এখন নিয়মিত যাতায়াত করতে হচ্ছে। এ কারণে সিলেটে চলে এসেছি।’ তিনি বলেন- ‘আমি যে সিলেট আসছি সে খবর কাউকে দেয়নি। দিলে বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত থাকতো। এতে করে আইনের জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনিতেই বিরোধী শক্তি হিসেবে চাপের মুখে আছি, তার উপর নতুন করে আমরা ঝামেলায় জড়াতে চাই না। জনগণের ওপর বিশ্বাস রেখে আমরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। জনগণের সমর্থন পেলে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবো।’

