বিয়ানীবাজারে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মনজ্জির আলীর সংবাদ সম্মেলন: নিজের জমি সংস্কার করতে গিয়ে নানা অপপ্রচারের শিকার
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ মে ২০১৮
লন্ডন, ৩ মে : যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ও বিয়ানীবাজার পিএইচজি হাই স্কুলের শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মনজ্জির আলী বলেছেন, দেশে সংখ্যালঘুর ধোঁয়া তুলে বিশেষ একটি মহল ফায়দা লুটতে চায়। তারা সমাজ এবং দেশকে অস্থিতিশীল করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে। এদের বিরুদ্ধে সরকার এবং প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, নিজের জমিতে একক অর্থায়নে নির্মিত দেয়াল ভাঙ্গতে গিয়ে যে বাঁধা এবং অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন, এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশে প্রবাসীরা আসা বন্ধ করে দিবেন। সর্বত্র আইনের শাসন সুনিশ্চিত এবং সামাজিক বেষ্টনী সৃষ্টি করলে সংখ্যালঘু এবং সংখ্যাগুরু ধোঁয়া তুলে কেই ফায়দা হাসিল করতে পারবে না।
তিনি গত ২৪ এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিয়ানীবাজার পৌরশহরের একটি রেস্টুরেন্টে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। এলডিপি (লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি)’র কেন্দ্রীয় নেতা মনজ্জির আলী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রতি সুপাতলায় তাঁর নিজের জমিতে নির্মিত একটি দেয়াল জরুরি প্রয়োজনে সংস্কারের জন্য ভাঙতে শুরু করেন। এতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ বাঁধা প্রদান করেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ চন্দ্র। এ সময় সুভাষ এবং তাঁর পক্ষের লোকজন মনজ্জির আলীর কাজের লোক কয়েছ আহমদের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েছ আহমদ আহত হন। এ ঘটনায় তার বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল মতিন বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। কিন্তু এতে পুলিশ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উলটো সুভাষ চন্দ্রের পক্ষাবলম্বন করে। মনজ্জির আলী জানান, বিষয়টি বর্তমানে সামাজিক নিষপত্তি অপেক্ষায় আছে। তবে তিনি ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কিত। কারণ সুভাস চন্দ্র স্থানীয় জনসাধারণ এবং সমাজপতিদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করছেন। তিনি সুভাষের এত টাকা এবং বিত্ত বৈভবের কারণ অনুস্বন্ধানে আইন শৃংখলা বাহিনী, দুদক এবং গোয়েন্দা সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে মনজ্জির আলী বলেন, আমি এই পরিচয়ে কোনো সুযোগ-সুবিধা নিতে চাইনা। তবে ন্যায্য সম্মান চাই। তিনি বাংলাদেশে মোটা অংকের বিনিয়োগ করছেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, সুপাতলা এলাকার কিছু লোক স্বর্ণ চোরাচালানের সাথে জড়িত। এরা মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত রয়েছে। তাই এদের টাকার প্রভাব বেশি। সময়ের পরিবর্তনে এক সময়ের মাদক ব্যবসায়ী এবং সেবনকারীদের কেউ কেউ এখন সমাজপতি সেজে সামাজিক শৃংখলা বিনষ্ট করছেন। তিনি এদের বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মনজ্জির আলীর ভাতিজা আসাদুজ্জামান মিশু এবং সুপাতলা গ্রামের মুরব্বি ময়না মিয়া প্রমূখ।

